দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এমন নীতিমালার ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির সারের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা জুঁই। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকরামুল হক টুটুল।
এর আগে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এমন নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে পাঁচ ব্যক্তি রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নীতিমালার কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশে সার ডিলার ও সার বিতরণসংক্রান্ত ২০০৯ সালে একটি নীতিমালা ছিল। ওই নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য সার ডিলার হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও পুত্রবধূর নামে বিভিন্ন সময়ে ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো এবং একটি পারিবারিক একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি হতো।
তিনি বলেন, এটি সংশোধনের জন্য ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা করা হয়। পরে নীতিমালাটি সংশোধন করে একই পরিবারের সদস্যরা যেন একাধিক ডিলারশিপ নিতে না পারেন এবং তারা যেন রাষ্ট্র, সরকার ও কৃষককে জিম্মি করতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের আগস্টে এই সংশোধন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসা পাঁচ পরিবারের সদস্য গত ৬ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে সরকারের নীতিমালার সংশ্লিষ্ট অংশ চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট করেন। রিটে তারা তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বহাল রাখা এবং নতুন নীতিমালার আওতায় তাদের সরানো না হয়, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চান। পরে হাইকোর্ট তাদের পক্ষে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছিল, রিটকারীরা যে নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। কারণ সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান এবং নতুন ডিলারদের ক্ষেত্রে এখনো বিতরণের পর্যায়ে যাওয়া হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পর আইনগতভাবে করণীয় হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। বুধবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আবেদনটি শুনানি করেন। রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী ইকরামুল হক টুটুলের বক্তব্যও শোনা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে সরকারের নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল থাকল। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ডিলারশিপের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করাই এর উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে সার বিতরণ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া এবং সার পেতে গিয়ে কৃষক যেন কোনো ধরনের বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেটিও নীতিমালার লক্ষ্য বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
এমএম/